ফুটবল মাঠে খেলার বদলে মারামারিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। কিল, ঘুষি আর লাথিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো মাঠ। শেষ পর্যন্ত রেফারিকে দেখাতে হয় মোট ২৩টি লাল কার্ড। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ক্রুজেইরো ও আতলেতিকো মিনেইরোর মধ্যকার ম্যাচে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জুভেন্টাসের সাবেক স্ট্রাইকার কাইও হোর্হের গোলে এগিয়ে যায় ক্রুজেইরো। গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে আতলেতিকো মিনেইরো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ঘটে বড় ধরনের সংঘর্ষ। ক্রুজেইরোর উইঙ্গার ক্রিশ্চিয়ানের একটি ট্যাকল মেনে নিতে পারেননি আতলেতিকোর গোলরক্ষক এভারসন। উত্তেজনায় তিনি ক্রিশ্চিয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাঁটু দিয়ে তার বুক চেপে ধরেন। এরপর মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সতীর্থকে বাঁচাতে ক্রুজেইরোর খেলোয়াড়রা মাঠে ছুটে আসেন। অপরদিকে আতলেতিকোর বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রাও ডাগআউট ছেড়ে মাঠে ঢুকে পড়েন। শুরু হয় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত মাঠে মিলিটারি পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশি পাহারায় খেলোয়াড়দের আলাদা করা হলেও উত্তেজনা কমেনি। রেফারি মাতিউস কান্দানসান পুলিশি নিরাপত্তায় মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ চলাকালে তিনি কোনো কার্ড না দেখালেও পরে জমা দেওয়া ম্যাচ রিপোর্টে জানান, এই ঘটনায় মোট ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আতলেতিকোর ১১ জন এবং ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা রয়েছেন। বহিষ্কৃতদের তালিকায় ছিলেন আতলেতিকো মিনেইরোর অধিনায়ক হাল্কও। ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ম্যাচ শেষে নিজের ভুল স্বীকার করেন।
হাল্ক বলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি রেফারিকে সতর্ক করেছিলেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাঁর মতে, শুরুতেই কয়েকজনকে বের করে দিলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। সতীর্থকে আক্রান্ত হতে দেখে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন