সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া হাজারীর অবৈধ সম্পদ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি এসব সম্পদ মেয়ে ও স্ত্রীর নামে মালিকানা দেখিয়ে গোপন করেছেন। অবৈধ আয়ে অর্জিত সম্পদ গোপনে স্ত্রী সেলিনা আক্তার ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার ফারহা তার সহযোগী হয়েছেন। তাদের নামে মোট ৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (চট্টগ্রাম-১) সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক মামলা দুটি দায়ের করেন।
এজাহারে অভিযোগ, গোলাম কিবরিয়া হাজারীর ৩,৪০,৬৫,৬৫৯ ও তার স্ত্রী সেলিনা আক্তারের ৪,৯৯,০৫,১৮৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
এই রাজস্ব কর্মকর্তা দুদকের সম্পদ বিবরণীতে নিজ নামে ১,৩০,৯৮,০০৪ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। অনুসন্ধানে দুদক তার ও মেয়ের নামে ৪,৮১,৮৯,৬৬৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ পেয়েছে। অর্থাৎ তিনি ৩,৫০,৯১,৬৬৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন তিনি।
সেলিনা আক্তার ১৯৯৮-১৯৯৯ করবর্ষ থেকে ২০১৯-২০২০ করবর্ষ পর্যন্ত শেয়ার ব্যবসা থেকে ৩,০৮,৫০,৯৫০ টাকা আয়সহ মোট ৫,২৩,১৪, ৬৯৪ টাকা আয় প্রদর্শন করেন। ২০০২-২০০৩ করবর্ষ থেকে ২০০৬-২০০৭ করবর্ষ পর্যন্ত এসআরও ৯৮/২০০৭ অনুযায়ী ৫০,০০,০০০ টাতা আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেন। কিন্তু, তিনি ওই টাকার আয় সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডপত্র দুদকে দাখিল করতে পারেননি। এছাড়া তিনি কমিশন বাবদ আয় ২৯,৮৪,৩৩০ টাকার আয় সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডপত্রও দাখিল করতে পারেননি। তিনি শেয়ার ব্যবসা থেকে ৩,০৮,৫০,৯৫০ টাকা, ডিভিডেন্ড বাবদ ১৪,৫২,৯৪৩ টাকা, রিয়ালাইজড গেইন বাবদ ৯১, ৬৯, ০১৪ টাকার আয় প্রদর্শন করেন। কিন্তু, দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা টাকার উৎস সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।
সেলিনা আক্তার দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তার নিজ নামে ৩৪,৩৫,০০০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। অনুসন্ধানকালে দুদক তার নামে ৭৯,৮৪,০০০ টাকার স্থাবর সম্পদ পেয়েছে। অর্থাৎ তিনি ৪৫,৪৯,০০০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৩,৪৫,৭৯,৭০৫ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। অনুসন্ধানকালে দুদক তার নামে ৫,৩৯,৩৬,৫৪০ টাকার অস্থাবর সম্পদ পেয়েছে। অর্থাৎ তিনি ১,৯৩,৫৬,৮৩৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন। তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ২,৩৯,০৫,৮৩৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় সেলিনা আক্তারের নামে ৬,১৯,২০,৫৪০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পেয়েছে দুদক। আয়রক নথি মোতাবেক তার নামে থাকা ৫৬,০৯,৯৫৮ টাকার ঋণ বাদে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫,৬৩, ১০, ৫৮২ টাকা। এর সঙ্গে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৬,১৯,৩১,৬৫৬ টাকা। এই আয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় ১,২০,২৬,৪৭১ টাকা বাদ দিলে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ৪,৯৯,০৫,১৮৫ টাকা।
গোলাম কিবরিয়া হাজারী ১৯৯০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রিভেন্টিভ অফিসার পদে কাস্টমস বিভাগে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে ইন্সপেক্টর পদে, ২০০৯ সালে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও ২০১২ সালে রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান। ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর তিনি অবসরে যান। তার বাড়ি ফেনী জেলা সদরে। বসবাস করেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকায়।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন