যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোয় বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ইসলামি বিপ্লবের পর এতদিন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন সেই ক্ষমতা ধীরে ধীরে সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব কাঠামোতে এ পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে। আগের একক নেতৃত্বভিত্তিক সিদ্ধান্ত ব্যবস্থার বদলে এখন বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক সংস্থার সমন্বয়ে নীতিনির্ধারণ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর নেতৃত্ব কাঠামোয় অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপর শীর্ষ পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব এলেও তিনি জনসমক্ষে খুব কমই আসছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সীমিত যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, নেতৃত্ব দপ্তর এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি ছোট কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সর্বোচ্চ নেতা এখন অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত অনুমোদনকারী ভূমিকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়াতেও এর প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ধীরগতির হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। একাধিক পক্ষের সমন্বয়ের কারণে একটি বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোর এই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক ভারসাম্য নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতি ও চলমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইরান সরকার আগেও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্বের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই এবং সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন