ঢাকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশে প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জন মানুষ প্রাণ হারান। এশিয়ান ট্রান্সপোর্ট অবজারভেটরির ২০২৫ সালের সড়ক নিরাপত্তা প্রোফাইল অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে বছরে গড়ে প্রায় ৬৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশই অতিরিক্ত গতির কারণে ঘটে। বাংলাদেশেও বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে যান চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৮২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে। সভায় আরও বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি পথচারী, সাইকেল আরোহী ও মোটরসাইকেল চালক—যারা উচ্চগতির দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। নিহতদের বড় অংশই ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ।
সভা থেকে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি, যানবাহনে বাধ্যতামূলক স্পিড নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন এবং সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন।
সূত্র: ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত মতবিনিময় সভা, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প প্রতিবেদন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন