ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনার জনদাবি আছে। তবে ভারত যদি তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর না-ও করে, তবুও দুই দেশের বাণিজ্য ও সামগ্রিক সম্পর্ক এতে বাধাগ্রস্ত হবে না। তার ভাষায়, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুতে আটকে থাকা উচিত নয়।
মির্জা ফখরুল জানান, হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা পানিবণ্টন, ফারাক্কা ইস্যু ও সীমান্ত হত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, যেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।
ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা যারা বলে, তাদের বক্তব্যকে অবাস্তব উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আলোচনাই একমাত্র পথ। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে জিয়াউর রহমান-এর রাষ্ট্রনায়কসুলভ কূটনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে মত দেন এবং জানান, তিনি এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে যৌথভাবে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা ও মেগা প্রকল্পগুলো নতুন সরকার পর্যালোচনা করবে বলেও জানান তিনি।