অস্ট্রেলিয়ায় চলমান উইমেনস এশিয়ান কাপ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ইরান নারী

নিরাপত্তা শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার ‘সেফ হাউসে’ ৫ ইরানি নারী ফুটবলার

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১০ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময় , আপডেট সময় : ১০ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান উইমেনস এশিয়ান কাপ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ইরান নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য একটি ‘সেফ হাউসে’ আশ্রয় নিয়েছেন। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ফিলিপাইনের কাছে হারের পর দলটির দেশে ফেরার কথা থাকলেও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই দেশে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ইরানের এক রক্ষণশীল টেলিভিশন উপস্থাপক খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়ে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত রোববার গোল্ড কোস্টে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকশ সমর্থক ইরানের টিম বাস ঘিরে ধরে ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ স্লোগান দেন।


বিবিসির তথ্যমতে, দলটির হোটেলের ভেতরেও গত কয়েক দিনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকজন খেলোয়াড় অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে কথা বলার পর হোটেল লবি থেকে বের হয়ে যান, যা দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বর্তমানে অনেক খেলোয়াড় দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা, এএফসি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।


এদিকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং স্যালুটও করেছেন, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, দলের সঙ্গে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এ কাজ করিয়েছেন। ফিফপ্রোর নেতা বিউ বুশ জানান, দলের কিছু খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন অথবা আরও কিছুদিন সেখানে থাকতে চান। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জোর করে দেশে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।


এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান দলের সদস্যদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হলে তা বড় মানবিক ভুল হবে। তার আশঙ্কা, দেশে ফিরলে খেলোয়াড়দের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ফুটবলারদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, অস্ট্রেলিয়া রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুত।


এদিকে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ রয়েছে, ফলে খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯