প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফিরে আসে ১–১ এ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। রোববার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে।
এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নজির গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দুই দলের শেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে পাকিস্তানকে ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দ্রুত আউট হয়ে যান।
পরে গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ঘুরি ২৯ ও সামাদ ৩৪ রান করে আউট হলে শতরানের আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। সাদ মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যান। মাসুদ ৩৮ রান করে আউট হলেও সালমান নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৯৮ বলে ১০৬ রান করে শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি। তবে তার ইনিংসও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি।
পাকিস্তানের ইনিংসের শেষদিকে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩৭ রান করলেও লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাসকিন আহমেদ, যিনি ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ৩টি এবং নাহিদ রানা ২টি উইকেট নেন। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিং জুটিতে আসে ১০৫ রান। সাইফ হাসান ৩৬ রান করে আউট হলেও অন্য ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন। তিনি ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। মাঝে নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ এবং লিটন দাস ৪১ রান করেন। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয় ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ অলআউট
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী
সিরিজ: বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী