মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ইরানকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করতে নতুন করে হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন মোতায়েনের মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ-এ অবস্থানরত প্রায় ৬ হাজার সেনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ২০০ মেরিন সদস্য এই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে বলে জানা যায়, যা নতুন বাহিনী যুক্ত হলে আরও শক্তিশালী হবে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই মোতায়েন সম্পন্ন করতে চায় পেন্টাগন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা। অন্যদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মার্কিন অবরোধ চলতে থাকলে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যদি পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে, তবে সব ধরনের কঠোর বিকল্প ব্যবহারের পথ খোলা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক বিমানবাহী রণতরি ও হাজারো সেনা মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। কূটনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।