ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরান চীন থেকে এক হাজারের বেশি অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড (ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সংগ্রহ করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, চীন সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ অস্বীকার করলেও মধ্য এশিয়ার কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে পৌঁছাতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ইতোমধ্যে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ম্যানপ্যাড হলো কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা একজন সৈনিক একাই পরিচালনা করতে পারেন। সাধারণত ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হয় এবং এগুলো শব্দের দ্বিগুণ গতিতে ছুটে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র নিচু দিয়ে উড়া যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাডার সিগনেচার না থাকায় এগুলো শনাক্ত করা কঠিন, ফলে আকাশপথে সহায়তা দিতে আসা বাহিনীর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি উন্নত নজরদারি বিমানও হামলার শিকার হয়েছে। এদিকে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছে অস্ত্র সরবরাহের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা বরং এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ম্যানপ্যাড সরবরাহের তথ্য সত্য হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন