গত ২৪ ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জসহ দেশের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ-এর জিনারিয়া হাওরের রক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই চিত্র মৌলভীবাজার-এর হাকালুকি হাওরেও। পাকা ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে। নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন হাওরেও হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, ঋণ করে চাষ করা ফসল নষ্ট হওয়ায় তাদের সামনে বড় ধরনের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জে বোলাই নদীর পাশের একটি খালের বাঁধ ভেঙে জিনারিয়া হাওরে পানি প্রবেশ করে। এতে কয়েক হেক্টর জমির ধান নিমিষেই তলিয়ে যায়। অন্যদিকে দোয়ারাবাজারসহ আশপাশের হাওরগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
নেত্রকোনার বিভিন্ন হাওর উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানির নিচে চলে গেছে। প্রশাসন দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করলেও শ্রমিক সংকট ও আবহাওয়ার কারণে পুরো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে দেশের বৃহত্তম হাওরগুলোর একটি হাকালুকি হাওরে পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বাস্তবে কৃষকদের দাবি, এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল মাঠে রয়েছে, যা যে কোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যাহত বৃষ্টি চলতে থাকলে হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।