সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই গুরুত্বপূর্ণ এশীয় দেশের এই সফরকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার বিকেলে রাজধানী থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি সরাসরি চীনে যাবেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা। চীন সফরকালে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রোটোকল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি খাত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি বড় নদীভিত্তিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।