প্রথমবারের
মত আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের কাছে ১৪২ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে
বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে আফগানদের কাছে এটিই বড় ব্যবধানে হার
টাইগারদের। প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে ১৭ রানে হেরেছিলো
বাংলাদেশ। এতে এক ম্যাচ বাকী
রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি
২-০ ব্যবধানে এগিয়েও
গেল আফগানিস্তান। এর আগে ২০১৬
ও ২০২২ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই দ্বিপাক্ষীক সিরিজ জিতেছিলো বাংলাদেশ। তৃতীয় দ্বিপাক্ষীক সিরিজে আফগানদের কাছে হারতে হলো বাংলাদেশকে।
দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের
জোড়া সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে প্রথমে
ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৯
উইকেটে ৩৩১ রান করে সফরকারী আফগানিস্তান। গুরবাজ ১৪৫ ও ইব্রাহিম ১০০
রান করেন। জবাবে ১৮৯ রানে গুটিয়ে ম্যাচ ও সিরিজ হারে
বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে প্রথমে
বোলিংয়ের সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। ব্যাট হাতে শুরু থেকেই রানের প্রতি মনোযোগী ছিলেন আফগানিস্তানের দুই ওপেনার গুরবাজ ও ইব্রাহিম। ৮
ওভারেই দলের রান পঞ্চাশ পার করেন তারা। সাকিবের করা ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার ও তৃতীয় বলে
ছক্কা মেরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পুরন করেন গুরবাজ। এজন্য ৪৮ বল খেলেন
তিনি। ১৫ ওভার শেষে
আফগানদের রান ১শ স্পর্শ করে।
২২তম ওভারের প্রথম বলে ১৪২ রান স্পর্শ করে আফগানিস্তানের পক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন গুরবাজ ও ইব্রাহিম। ঐ
ওভারেই সফরকারীদের স্কোর দেড়শ স্পর্শ করে। ২৮তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলেন ১০০ বল খেলা গুরবাজ।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের হওয়া দু’টি সেঞ্চুরিরই
মালিক হন গুরবাজ। গেল
বছরের সিরিজে চট্টগ্রামে অপরাজিত ১০৬ রান করেছিলেন তিনি।
স্কোর
কার্ড :
আফগানিস্তান ইনিংস :
গুরবাজ এলবিডব্লু ব সাকিব ১৪৫
জাদরান ক শান্ত ব
মুস্তাফিজুর ১০০
রহমত ক মুস্তাফিজুর ব
এবাদত ২
শাহিদি বোল্ড ব মিরাজ ২
নাজিবুল্লাহ ক লিটন ব
মিরাজ ১০
মোহাম্মদ নবী অপরাজিত ২৫
রশিদ স্টাম্প মুশফিক ব সাকিব ৬
ওমারজাই ক সাকিব ব
মুস্তাফিজুর ২
মুজিব ক নাইম ব
হাসান ৫
ফারুকি ক মিরাজ ব
হাসান ১
অতিরিক্ত (বা-৪, লে
বা-৯, নো-৪,
ও-১৬) ৩৩
মোট (৯ উইকেট, ৫০
ওভার) ৩৩১
উইকেট পতন : ১/২৫৬ (গুরবাজ),
২/২৫৯ (রহমত), ৩/২৬৬ (শাহিদি),
৪/২৮৬ (নাজিবুল্লাহ), ৫/২৯৯ (ইব্রাহিম),
৬/৩০৬ (রশিদ), ৭/৩১৮ (ওমারজাই),
৮/৩২৩ (মুজিব), ৯/৩৩১ (ফারুকি)।
বাংলাদেশ বোলিং :
মুস্তাফিজ : ১০-০-৬০-০ (ও-১,
নো-২),
হাসান : ১০-০-৭০-০ (ও-১,
নো-২),
এবাদত : ৯.২-০-৬১-১ (ও-১),
সাকিব : ১০-০-৫০-১ (ও-২),
মিরাজ : ৯-০-৬০-১ (ও-৪),
শান্ত : ১.৪-০-১৭-১।
বাংলাদেশ ইনিংস :
মোহাম্মদ নাইম বোল্ড ফারুকি ৯
লিটন দাস ক নবি ব
ফারুকি ১৩
নাজমুল হোসেন বোল্ড ব মুজিব ১
তাওহিদ হৃদয় বোল্ড ব রশিদ ১৬
সাকিব এলবিডব্লু ব নবি ২৫
মুশফিকুর রহিম ক মুজিব ব
ফারুকি ৬৯
আফিফ ক নবি ব
রশিদ ০
মেহেদি হাসান মিরাজ ক রহমত ব
মুজিব ২৫
হাসান এলবিডব্লু ব মুজিব ৪
মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত ৭
অতিরিক্ত (বা-৪, লে
বা-২, ও-১৪)
২০
মোট (অলআউট, ৪৩.২ ওভার)
১৮৯
উইকেট পতন : ১/১৫ (লিটন),
২/২০ (শান্ত), ৩/২৫ (নাইম),
৪/৬৫ (হৃদয়), ৫/৭১ (সাকিব),
৬/৭২ (আফিফ), ৭/১৫৯ (মিরাজ),
৮/১৬৯ (হাসান), ৯/১৮৯ (মুশফিক)।
আফগানিস্তান বোলিং :
ফারুকি : ৭.২-১-২২-৩ (ও-৩),
মুজিব : ১০-০-৪০-৩ (ও-৩),
সেলিম : ৬-০-৩৪-০ (ও-৩),
নবি : ৬-০-২৯-১ (ও-১),
রশিদ : ৯-০-২৮-২,
ওমারজাই : ৫-০-৩০-০ (ও-১)।
ফল : আফগানিস্তান ১৪২ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : রহমানউল্লাহ গুরবাজ(আফগানিস্তান)।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে
এগিয়ে গেল আফগানিস্তান।