বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে একের পর এক বিতর্কে। গতকাল সোমবার ছিল

ভোটার তালিকা ছাড়াই এগোচ্ছে বিসিবি নির্বাচন, বাড়ছে প্রশ্নের ঝড়!

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৪ সময় , আপডেট সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৪ সময়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে একের পর এক বিতর্কে। গতকাল সোমবার ছিল বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শেষ বোর্ড সভা। শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়, কিন্তু পিছিয়ে তা শুরু হয় রাত সাড়ে ৯টায়। আনুষ্ঠানিক আলোচনা সংক্ষিপ্ত হলেও বৈঠক শেষ হয় প্রায় মধ্যরাতে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হলো, নির্বাচনের মূল প্রক্রিয়া-কাউন্সিলর বা ভোটার তালিকার খসড়া অনুমোদন-সে রাতেও হয়নি!


তফসিল অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু আদালতের রিট, আপিল বিভাগে শুনানি এবং সভাপতির একক সিদ্ধান্তে সময়সীমা বৃদ্ধির বিতর্কে সেই তালিকা অনিশ্চয়তার গহ্বরে হারিয়ে গেল। ফলে নির্বাচন শুরুর আগেই তফসিলের বরখেলাপ হলো।


এর আগেই হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়েছিল বিসিবি সভাপতির পাঠানো দ্বিতীয় দফা সময় বাড়ানোর চিঠি। যদিও চেম্বার আদালত পরে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়, তবু আদালত প্রক্রিয়ার জটিলতায় নির্বাচনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। বোর্ড সভা শেষে পরিচালক ইফতেখার রহমান স্বীকার করেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ না আসা পর্যন্ত তারা চূড়ান্ত আলোচনায় বসতে চাননি।


কাউন্সিলর মনোনয়ন ঘিরে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র হয় সোমবার রাতেই। নির্ধারিত সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, কিন্তু তার পরও নাম জমা পড়েছে। এমনকি রাত ৯টার পর সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের নামও জমা দেওয়া হয় কাউন্সিলর হিসেবে। ইফতেখার রহমান বলেন, সময় শেষ হলেও তারা সব নামই নোটসহ নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে বৈধতা নির্ধারণের দায়িত্ব কমিশনের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


এত দেরি ও অস্পষ্টতায় বাড়ছে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ। সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও কাউন্সিলর তামিম ইকবাল সরাসরি অভিযোগ করেছেন, বিসিবি নির্বাচনে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মহল হস্তক্ষেপ করছে। তিনি বলেন, ‘এটা নির্বাচন নয়, বরং সিলেকশন চলছে।’


একই সুরে ইশরাক হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে বিসিবি ঘেরাও করা হবে। সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর ও আরও অনেকে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।


সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে সভাপতি আমিনুল ইসলামের একক সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি তিনি পরিচালকদের মতামত ছাড়াই করেছেন-এ তথ্য স্বীকার করেছেন বিসিবির মুখপাত্র ইফতেখার রহমান মিঠুও, ‘প্রেসিডেন্ট সাহেব নিজের ক্ষমতাবলে এটা করেছেন। উনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে অনুমোদন দিয়ে সময় বাড়িয়েছেন।’ তবে কেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নয়, সভাপতি নিজেই চিঠিতে স্বাক্ষর করলেন, সেই প্রশ্নের জবাবে ইফতেখার কেবল হাসিতে সাড়া দেন।


নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের তীর সরাসরি আমিনুল ইসলামের দিকে ছুটলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করছেন না। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেন ইফতেখারের হাতে। ফলে নানা প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্রকে পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায়।


তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেদিন রাতেই নির্বাচিত পরিচালকেরা সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন। কিন্তু ভোটার তালিকাই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সময়সীমা পেরিয়ে জমা পড়া ফরম, হাইকোর্ট-আপিল বিভাগের রায়, সভাপতির একক সিদ্ধান্ত আর সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ-সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন আবারও তুমুল সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।


বিসিবির ইতিহাসে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু এবারের মতো তফসিল ঘোষণার পরও প্রক্রিয়ার শুরুতেই এত প্রশ্ন আর অনিশ্চয়তা ক্রিকেটের বাইরে অন্য কিছুর ইঙ্গিতই বহন করছে। নির্বাচন এগোচ্ছে তো বটেই, তবে সেটি আদৌ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হবে কিনা-সেই প্রশ্ন দানা বেঁধেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে!

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯