ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ১৭ বছর পর দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নবনির্বাচিত সরকার, যার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ভঙ্গুর, ব্যাংক খাত অচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা বিরাজ করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ও বাজেট ঘাটতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংকট নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনি ইশতেহারে তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, রমজান মাসের আগেই পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনাতেই সরকারের অগ্রাধিকার থাকা উচিত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, নতুন সরকারকে দ্রুত এবং বিচক্ষণ পদক্ষেপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জুলাই আন্দোলনের প্রভাব বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি গত চার বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিদেশি বিনিয়োগও প্রত্যাশার তুলনায় কম।
দেশের দারিদ্র্য ও বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিই বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম চাবিকাঠি। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে নতুন সরকারের কাছে এখন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন