মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরীর অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবারের এই জলাবদ্ধতায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম-এর প্রবর্তক, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, জিইসি, জামালখানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি জমে যায়। কোথাও ৬–৮ ঘণ্টা পর পানি নামলেও অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তাঘাট ডুবে থাকে, ফলে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং দোকানপাট ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে বুধবার সন্ধ্যায় জলাবদ্ধতা এলাকা ঘুরে দেখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পানি দ্রুত নেমে গেছে। তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম শহর স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হিজড়াখাল সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় সাময়িক ব্যারিকেডের কারণে পানি নিষ্কাশনে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খালের বাধা অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির কথা জানান। স্থানীয়দের মতে, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। এদিকে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান একজন সংসদ সদস্য। সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে বারবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন