আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় ধরনের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় সফলতার বার্তা দিল কানাডার শহর টরন্টো। শনিবার শহরের প্রধান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক জমজমাট ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের উপস্থিতিতে নতুন ইতিহাস গড়ে আয়োজকরা। বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির দল মুখোমুখি হয়েছিল টরন্টোর স্থানীয় ক্লাবের। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত হন, যা স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড। পুরো গ্যালারিজুড়ে ছিল গোলাপি জার্সি আর আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙের আধিপত্য।
ম্যাচে মেসির গোলে তাঁর দল ৪-২ ব্যবধানে জয় পেলেও, আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করা। নিরাপত্তা, জরুরি সেবা, পরিবহন ও দর্শক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় কতটা কার্যকর— সেটিই ছিল বড় বিষয়। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি কমিটির নির্বাহী পরিচালক শ্যারন বোলেনবাখ জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তব পরিবেশে বিভিন্ন বিভাগের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মান অনুযায়ী স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সংস্কারকাজ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১৭ হাজার অস্থায়ী আসনও যুক্ত করা হয়, যা এই ম্যাচে প্রথমবার ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অস্থায়ী গ্যালারির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবুও ম্যাচে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে খেলার শেষদিকে কয়েকজন দর্শক মাঠে প্রবেশ করে মেসির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও বলেন, বড় বড় ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে শহরের সামগ্রিক প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে। পরিবহন ব্যবস্থাপনাতেও ছিল বাড়তি তৎপরতা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রীর চাপ সামলাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে টরন্টোতে তিন লাখের বেশি দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন