পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘মাছ’। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-এর মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষকে মাছ, মাংস ও ডিম খেতে বাধা দেওয়া হতে পারে। এমনকি যারা এসব খাবেন, তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাল্টা বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদনে রাজ্যটি স্বনির্ভর নয়। দেশের মোট মাছ উৎপাদন গত ১১ বছরে দ্বিগুণ হলেও পশ্চিমবঙ্গ সেই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তৃণমূলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ, চিংড়ি, পাবদাসহ নানা বাঙালি খাবারের ছবি পোস্ট করে বিজেপিকে কটাক্ষ করা হয়।
প্রচারণায়ও দেখা যাচ্ছে ভিন্নধর্মী দৃশ্য। বিজেপি প্রার্থীরা মাছ হাতে নিয়ে প্রচারে নামছেন, আবার তৃণমূল প্রার্থীরাও মাছকে প্রতীকীভাবে ব্যবহার করছেন। বিধাননগরে বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বড় কাতলা মাছ হাতে নিয়ে প্রচার করেছেন। খড়গপুরে প্রচারণার সময় মাছের বাজারেও যান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
অন্যদিকে, টালিগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস নববর্ষের দিন রুই মাছ সঙ্গে নিয়ে প্রচারে অংশ নেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মাছ খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন এবং খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা—এসব বিষয় এখন ভোটের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন