মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এসেছে। এতে বিশ্বজুড়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও চুক্তির স্থায়ীত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে এই সমঝোতা ভেস্তে যেতে পারে। এর প্রধান ঝুঁকি হিসেবে ইসরাইলের অবস্থানকে উল্লেখ করা হচ্ছে, কারণ দেশটি এ চুক্তির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেনি এবং বরং উদ্বেগ জানিয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশও এই সমঝোতার বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে। যদিও কিছু রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ ইহুদি সংগঠন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সমর্থন জানিয়েছে, তবুও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির আগে ও পরে অঞ্চলে উত্তেজনাও দেখা গেছে। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার জেরে সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাও স্থগিত হয়। পরে কড়া হুঁশিয়ারির পর লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল, যদিও এর স্থায়ীত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কিছু সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ায় তেলের দাম হ্রাস পায়, যা বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তি আনে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। চুক্তির সমালোচকদের মতে, এতে ইরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকরা মনে করছেন, এটি দীর্ঘদিনের সংঘাত কমিয়ে স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইরানের পক্ষ থেকে এই সমঝোতাকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব দাবি করেছে, চাপের মুখেও সমঝোতা অর্জন করা হয়েছে এবং এতে সার্বভৌম স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি জনমত জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনাস্থার চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক মহল থেকেও চুক্তি নিয়ে সমালোচনা জোরালো হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সমঝোতা স্মারক বিশ্ব রাজনীতিতে সাময়িক স্বস্তি আনলেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন